শাল্লার খবর ডেস্ক :::: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সিলেটে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে নগরে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী রাহুলসহ অন্যান্য ক্যাডাররা এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এসকল নেতা কর্মীরা সিলেট নগরীতে পালন করছে বিভিন্ন ধরনের দলীয় কার্যক্রম।মিছিল দিচ্ছে নগরে বা স্টেডিয়াম এলাকায় , আবার কখনও শীতবস্ত্র বিতরণের নামে পালন করছে দলীয় কর্মসূচী। আর এসকল কিছুই প্রকাশ্যে নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় বসে রূপরেখা তৈরি করছে বিধান গ্রুপের সক্রিয় ছাত্রলীগ নেতা ও নগরীর শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ আখড়ার বাসিন্দা জিতেন্দ্র দেবনাথের ছেলে রাহুল দেবনাথ(৩০) ও পীযুষ গ্রুপের সক্রিয় ক্যাডার সৌরভ দেবনাথ । বিগত ০৪ আগষ্ট কোর্ট পয়েন্টে রাহুল দেবনাথ অস্ত্রসহ সরাসরি ছাত্র জনতার উপর হামলায় জড়িত ছিল। তার আপন ছোট ভাই সৌরভ দেবনাথ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পীযুষ গ্রুপের ক্যাডার। সে ছাত্র জনতার উপর হামলায় জড়িত ছিল। এমনকি রাহুল দেবনাথ ও সৌরভ দেবনাথ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডার হিসেবে সিলেটের সর্ব মহলে পরিচিত। তারা চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাজি, জায়গা দখল, সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িত। বর্তমানে তাদের অপকর্ম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত আছে । ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট হামলাকারি ও হত্যা ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানার ( মামলা নং ২২, তাং ২৮/০৮/২৪ইং) এর ৩৪ নং আসামি ও কোতোয়ালী মডেল থানার ( মামলা নং-২০, তাং ১২/২/২৫ইং) মামলার ৭৩ নং আসামি ।অথচ, তাদের ভয়েই জুলাই থেকে গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত অজানা আতঙ্কে ছিল ছাত্র-জনতা, গণমাধ্যমকর্মী থেকে শুরু করে আন্দোলনে সমর্থনকারীরা।
জুলাই-আগস্টের ঘটনায় মামলা হলেও প্রকাশ্য অস্ত্রধারীরা ধরা পড়ছে না। তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সিলেট নগরবাসী।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোয় সরব ছিলেন ছাত্র-জনতা। ফলে মধ্য জুলাইয়ের আগে থেকেই বিভাগীয় শহরে কোটা সংস্কারের দাবি জোরালো হতে শুরু করে। এর মধ্যেই ছাত্রলীগ হামলা চালায় আন্দোলনকারীদের ওপর।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের শক্ত প্রতিরোধের কারণে সদ্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তকমা পাওয়া ছাত্রলীগ সেসময় আর ক্যাম্পাসে অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি।
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যখন তীব্র হতে শুরু করে, তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে মারমুখী হয়। পুলিশের লাঠিপেটাসহ হয়রানিতেও মাঠ থেকে সরে না যাওয়ায় পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের রয়ে যায়। তখন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সবকটি গ্রুপ। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিক লীগসহ আওয়ামীমনা সবগুলো সংগঠন মাঠে নামে আন্দোলন দমনে। শুরু হয় নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ড।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত জুলাই-আগস্টে যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নগরে মোটরসাইকেল মহড়া দেয়। আন্দোলনকারীদের রাজপথ থেকে হটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বাসা-বাড়ি, মেসসহ বহু আবাসস্থলে তল্লাশি শুরু করে তারা। ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট সকাল পর্যন্ত দেশি-বিদেশি অস্ত্র, স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিছিল সহকারে মহড়া দিতে দেখা রাহুল দেবনাথ, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অনিক দাশসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। ৫ আগস্ট পর্যন্ত এসব ভীতির মাঝেই আন্দোলন চালিয়ে যায় শিক্ষার্থীরা।
মাঠে থাকা সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সংবাদ কাভার করতে গিয়ে কখনও পুলিশ আবার কখনও কথিত আন্দোলনকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন তারা। ভীতির মাঝেই অস্ত্রধারীদের ছবি তুলতে গিয়েও হেনস্থা-লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। অবশ্য, সমন্বয়কদের পক্ষ থেকে সিলেটে কোনো সহিংসতায় তাদের কেউ জড়িত ছিল না- শুরু থেকেই দাবি করা হচ্ছিল।
সে সময় আওয়ামী লীগ ও তার সবগুলো অঙ্গসংগঠনের ক্যাডারবাহিনী অস্ত্র হাতে অবস্থান নেওয়ার বহু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কিছু ছবিতে কারা কারা এ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল তাদের দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কেন, কোন কারণে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না, প্রশ্ন নগরবাসীর। তারা জানিয়েছেন, ‘৩৬ জুলাই’ বিজয় অর্জনের পরও তারা আতঙ্কে থাকেন। শিক্ষার্থীদের মনেও অজানা ভয় কাজ করছে।
এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সিলেট জেলা পুলিশ সূত্র জানিয়েছেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।