শাল্লা প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শাল্লায় বাহাড়া ইউনিয়নের মহিলা সদস্য বাসন্তী রাণী দাশ প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এ লিখিত অভিযোগ করা হয়। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, আমি অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উজান যাত্রাপুর গ্রামের কৃষকের ফসল ঘরে তোলার স্বার্থে হাওরের উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে উপজেলা পরিষদ থেকে ১ লক্ষ টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়। নিয়ম অনুযায়ী এই প্রকল্পের সভাপতি হন বাহাড়া ইউপির ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য বাসন্তী রাণী দাশ। উক্ত প্রকল্পের ১ম বরাদ্দের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিছু অংশ কাজ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কথা ছিল ২য় বরাদ্দের ৫০ হাজার টাকা তুলে কাজ করাবেন। আমরা জেনেছি পরিপূর্ণ কাজ করার জন্য ২য় বরাদ্দের টাকা তুলে নিয়েছেন প্রকল্পের সভাপতি বাসন্তী রাণী দাশ ও সদস্য পিন্টু তালুকদার। কিন্তু আজ পর্যন্ত ২য় বরাদ্দের টাকা দিয়ে কোন কাজ করা হয়নি। বাকী অংশের কাজ না করা হলে রাস্তার অব্যস্থাপনার কারনে কৃষকদের ফসল ঘরে তুলতে খুবই কষ্ট হবে। তাই কৃষকদের কষ্ট লাঘবে জরুরী ভিত্তিতে অবশিষ্টাংশ কাজ করা আবশ্যক। প্রকল্প সভাপতি মহিলা সদস্য বাসন্তী রাণী দাশ ও সদস্য পিন্টু তালুকদার ২য় বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা সত্ত্বেও যদি কাজ না করেন তাহলে আমরা ধরে নিতেই পারি সরকারি টাকা অর্থ আত্মসাতের সামিল।
উজান যাত্রাপুরের কয়েকজন এবিষয়ে বলেন, বিগত কয়েক মাস আগে দেখছি আমরা গ্রামের কালী দাশ (পিন্টু) কিছু মানুষ দিয়ে ডহরের রাস্তার কাজ করাইছে। পরে জানতে পারি মহিলা মেম্বার বাসন্তী রাণী পিন্টুরে দিয়া কাজ করায়। কৃষকের সুবিধার্থে আমরা কাজ করার পরামর্শ দিলে সেই পরামর্শ অনুযায়ী কাজ সম্পুর্ন করেনি। পিন্টু বলেছিল প্রথম বিল তুলে কাজ করতাছি, বাকিটা দ্বিতীয় বিল তুলে কাজ করাইমু। শুনেছি মাস খানেক আগে ২য় কিস্তির টাকা তুলছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কাজ করছে না। যদি রাস্তায় আরও মাটি ফেলা না হয় তাহলে আমাদের এই রাস্তা কোন কাজে আসবে না। যেহেতু কাজ করছে না সেহেতু সরকারি টাকা তুলে নিশ্চয়ই আত্মসাত করেছে সভাপতি ও সদস্য।
এবিষয়ে পিন্টু দাশের মন্তব্য জানার জন্য একাধিকবার কল দিলে নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
জানতে চাইলে প্রকল্পের সভাপতি মহিলা সদস্য বাসন্তী রাণী দাশ জানান, ২য় কিস্তির টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু কাজ করা হইছে কি না উনি জানেন না।