মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ঋণের বোঝা সইতে না পেরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মহরম আলী (৫৫) নামের ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন।
গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় সিলেটগামী আন্ত:নগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে শমশেরনগর রেলস্টেশনের পাশে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
মহরম আলী কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের চানগাঁও গ্রামের মৃত সোনা উল্যার ছেলে। তিনি পীরের বাজারের একজন মুদী ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনের আউটার এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী আন্তঃনগর পাহড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে চলন্ত অবস্থায় পড়ে মহরম আলী ঝাঁপ দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ট্রেনে কাটা পড়ে ওই ব্যক্তির মাথাসহ দেহ কয়েক খন্ড হয়ে যায়।
নিহতের ব্যবহৃত ফোনে কল আসলে তার পরিচয় নিশ্চিত হন শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার এসআই দীপক সরকার। তিনি বলেন, পরিবারের মাধ্যমে জানতে পারলাম মহরম আলী ঋণগ্রস্ত ছিলেন। এ চাপ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। লাশে পাশ থেকে একটি কীটনাশকের বোতল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।
হাজীপুর ইউপি সদস্য রাজা মিয়া জানান, পেরেছি মুদী ব্যবসায়ী মহরম আলী ঋণগ্রস্ত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি ঋণের চাপ সইতে না পেরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন। নিহতের বড় ভাইয়ের স্ত্রী মালা বেগম জানান, নিহত ব্যবসায়ী মহরম আলী ২০ লক্ষ টাকার উপরে ঋণ আছে। স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণের চাপ সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার (জিআরপি) উপ-পরিদর্শক দীপক সরকার বলেন, রেলওয়ে পুলিশ ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত মহরম আলীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ মঙ্গলবার রাতেই হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।