• ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

শাল্লায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

Dainik Shallar Khabor.com
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৩, ২০২৫
শাল্লায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ০৩ নং বাহাড়া ইউনিয়নের ভাটগাঁও গ্রামে গত (৮ জানুয়ারী) বুধবার দুপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আমীর হোসেন নামে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় প্রবাসী আমীর হোসেনের আপন বড় ভাই আবুল হোসেন বাদী হয়ে শাল্লায় থানায় (৯ জানুয়ারী) বৃহস্পতিবার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আমি (আবুল হোসেন) বাদী একজন শান্তিপ্রিয় নিরীহ প্রকৃতির লোক। অপরপক্ষে বিবাদীগণ পরস্পর আত্মীয়, একদলভূক্ত, উগ্র, উশৃংখল, দাঙ্গাবাজ, পরের ক্ষতিসাধনকারী ও পরধনলোভী প্রকৃতির লোক। তাদের সঙ্গে আমার বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে অনেকদিন যাবত মনোমালিন্যতা ও শত্রুতা চলিয়া আসিতে থাকায় তারা প্রায় সময় আমার আর্থিক ও জানমালের ক্ষতিসাধনের অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। পূর্ব মনোমালিন্যতা ও শত্রুতার আক্রোসে সমূহ বিবাদীগণ বেআইনী জনতাবদ্ধে দেশীয় প্রাণনাশক অস্ত্র দা, লাঠি, রামদা, রড ইত্যাদি নিয়ে বর্ণিত ঘটনার তারিখ ও সময়ে অর্থাৎ গত ০৮/০১/২০২৫ ইং তারিখ বিকাল অনুমান ০২:০০ ঘটিকার সময় বলপূর্বক অন্যায় অনাধিকারে আমার বসত বাড়িতে আসিয়া বসত ঘরে প্রবেশ করে বিবাদী দুলাল মিয়ার হুকুমে অন্যান্য বিবাদীগণ তাদের হাতে থাকা দা, লাঠি, রামদা ও রড দিয়ে বেধরক বাইরাইয়া ও কুপিয়ে আমার বসত ঘরে ফ্রিজ, টিভি, সুকেজ সহ বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র ও ঘরের বেড়া, দরজা ভাংচুর করিয়া প্রায় ১,৫০,০০০/- টাকার ক্ষতিসাধন করে। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন বাধা দিলে বিবাদীগণ তাদের হাতে দা, রামদা ও রড নিয়ে আমাদেরকে মারার জন্য আগাইয়া আসিলে আমরা প্রাণের ভয়ে দৌড়ে ঘর থেকে বাহির হয়ে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করি। নতুবা বিবাদীগণ আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে প্রাণে মেরে ফেলত। বিবাদীগণের ভাংচুর ও হুমকী ধামকী শুনিয়া উল্লেখিত স্বাক্ষীগণ সহ আশেপাশের ও গ্রামের অনেক লোকজন ঘটনাস্থলে আগাইয়া আসিলে বিবাদী সাইদুল মিয়া আমার বসত ঘরের স্টীলের আলমিরার তালা ভেঙ্গে আলমিরাতে রক্ষিত নগদ ২,৮০,০০০/- টাকা এবং চার ভড়ি ওজনের স্বর্ণালংকার যার মূল্য প্রায় ৫,২০,০০০/- টাকা নিয়ে সমূহ বিবাদীগণ আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও স্বাক্ষীগণের সম্মুখে প্রকাশ্যে খুন করার হুমকি দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলে যায়। বিবাদীগণ চলে যাওয়ার পর আমি বিষয়টি গ্রামের গন্যমান্য লোকজনকে অবগত করে নিরুপায় হইয়া আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হলাম।

অভিযোগে উল্লেখিত বিবাদীগণের নাম:
১। সাইদুল মিয়া (৪৮) ২। সাদ্দেক মিয়া (৫২) উভয় পিতা- মৃত আজিম উল্লা ৩। মারুফ মিয়া (২৮) ৪। সারুফ মিয়া (২৬) ৫। সামরুপ মিয়া (২৪) সর্বপিতা- সাদ্দেক মিয়া ৬। দুলাল মিয়া (৫৫) ৭। আলীম উদ্দিন (৫২) উভয় পিতা-মৃত রহমত আলী ৮। মুছা মিয়া (৩০) ৯। পাশা মিয়া (২২), উভয় পিতা- দুলাল মিয়া ১০। আবাল মিয়া (৫৮) পিতা- মৃত ওহাব আলী ১১। হাবিল মিয়া (৩০) ১২। জাকির মিয়া (২৭) উভয় পিতা- আবাল মিয়া ১৩। আলা উদ্দিন (৩২) পিতা- জয়নাল মিয়া ১৪। শফিকুল মিয়া (৩০) পিতা- ইব্রাহিম মিয়া ১৫। মালফু মিয়া (৩২) পিতা- মৃত আঃ কাইয়ুম, সর্বসাং- ভাটগাঁও, ৩নং বাহাড়া ইউনিয়ন, থানা- শাল্লা, জেলা- সুনামগঞ্জ।

অভিযোগে উল্লেখিত স্বাক্ষীগণের নাম:
স্বাক্ষীঃ ১। আনোয়ার মিয়া (২৬) পিতা- কুতুব উদ্দিন ২। অন্তর মিয়া (২৫) পিতা- চান মিয়া ৩। নুরজামাল (২৮) পিতা- আয়নাল মিয়া ৪। শাহীনুর মিয়া (২০) পিতা- আমির হোসেন ৫। সালেহ রহমান (৪০) পিতা- মৃত আঃ গফুর, সর্বসাং- ভাটগাঁও, ৩নং বাহাড়া ইউপি, থানা- শাল্লা, জেলা- সুনামগঞ্জ।

এবিষয়ে শাল্লা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আল আমিন জানান, লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করা হয়েছে। বিষয়িটি আইনী প্রক্রিয়ায় রয়েছে।