হাবিবুর রহমান হাবিব, লেখক ও সাংবাদিক, শাল্লা-সুনামগঞ্জ :::
বছর ঘুরে মুমিন মুসলমানদের দ্বারে আবারও রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে ফিরে এলো পবিত্র মাহে রমজান। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম এই রোজা বা সিয়াম সাধনা কেবল উপবাস থাকা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সোপান।
সংযম ও আধ্যাত্মিকতার মাস:
রমজান মাস মূলত নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করার সময়। ভোররাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সকল প্রকার মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের চরিত্রকে সুন্দর করে গড়ে তোলার সুযোগ পান। শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে তারাবিহ নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক এক আবহ তৈরি হয়েছে, যা ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তি জোগাচ্ছে।
মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা:
রমজানের অন্যতম শিক্ষা হলো সহমর্মিতা। ক্ষুধার্ত থাকার মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কষ্ট অনুধাবন করাই এর মূল উদ্দেশ্য। এ মাসে বিত্তবানদের ওপর অর্পিত জাকাত ও ফিতরা দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য দূর করা সম্ভব। ইফতারের দস্তরখানে ধনী-দরিদ্রের একত্রে বসা ইসলামের সাম্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন:
রমজানকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনপদেও উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। সেহরি ও ইফতারে পরিবারের সকল সদস্যের একত্র হওয়া পারিবারিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। এছাড়া পাড়া-প্রতিবেশীর খোঁজখবর রাখা এবং একে অপরকে ইফতার করানোর মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।
উপসংহার:
রমজানের এই দীর্ঘ এক মাসের প্রশিক্ষণ যেন আমাদের বছরের বাকি ১১ মাসও সঠিক পথে পরিচালিত করে। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে একে অপরের প্রতি দয়া, ক্ষমা ও ভালোবাসা প্রদর্শনই হোক এই পবিত্র মাসের অঙ্গীকার। সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলসহ সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জীবনে রমজান বয়ে আনুক শান্তি ও সমৃদ্ধি।