৩ নভেম্বর ধানের শীষের টিকিট ঘোষণা, ৪ নভেম্বর বিকেল ৩ টায় বিএনপিতে রক্তঝরা সংঘর্ষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মিলন-মিজান গ্রুপের প্রকাশ্য যুদ্ধ : প্রার্থী কলিম উদ্দীন মিলনের মামলা: বিএনপি নেতাসহ ৫২ আসামি পুলিশের টিয়ারশেল লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার ৭, এলাকা থমথমে
নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩ নভেম্বর বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পরদিনই সুনামগঞ্জ ৫ আসনে
দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়।
৪ নভেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩ টার দিকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী কলিম উদ্দীন আহমদ মিলন-এর
সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী-এর গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারে অন্তত ৪৫ জন নেতা-কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। পরে রাতভর অভিযানে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মনোনয়ন ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই বিস্ফোরণ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৩ নভেম্বর সুনামগঞ্জ ৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পর এলাকায় দীর্ঘদিনের উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ৪ নভেম্বর বিকেল ৩ টার দিকে ছাতকের টেটিয়ারচর বাজার এলাকায় মিলনের সমর্থকদের একটি অবস্থান কর্মসূচির সময় মিজানুর রহমান চৌধুরী গ্রুপের নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট ভাঙচুর, যানবাহনে হামলা এবং আতঙ্কে মানুষ দিকবিদিক ছুটতে থাকে। পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম হয়।
সংঘর্ষে নেতৃত্ব কারা : মিলন গ্রুপের পক্ষে সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেন আবদুল কাদের লিটন, শাহ আলম রুবেল, মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম ও রেজাউল করিম রাজু। অপরদিকে মিজানুর রহমান চৌধুরী গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন এনামুল হক বাবুল, জসিম উদ্দীন মজনু, হাবিবুর রহমান সোহেল,আবুতাহের মিছবাহ ও তৌহিদ আহমদ পলাশ।
মিলনের মামলা: পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ ঘটনার পর রাতে ধানের শীষের প্রার্থী কলিম উদ্দীন আহমদ মিলনের ঘনিষ্ঠ হাছনাবাদ গ্রামের আজিজুর রহমানের পুত্র মোঃ আল আমিন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ ৫২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৩০-৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, “মনোনয়ন ঘোষণার পরদিনই আমাকে ও আমার মতো অন্যান্য কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।” পুলিশি একশন ও সতর্কতা পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও আসামি শনাক্ত করা হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো থমথমে।
দলীয় শৃঙ্খলা প্রশ্নের মুখে মনোনয়ন ঘোষণার পরদিনই এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিএনপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী
প্রস্তুতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।